এই কাণ্ডের শিক্ষা
- আদর্শ শাসন — রামের রাজত্বে সুখ-শান্তি বিরাজ করে
- প্রজাপালন — শাসক প্রজার সুখকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন
- ত্যাগের মহিমা — সীতার ত্যাগ ও ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা
- ঈশ্বরের লীলা — রামের মানবলীলা সমাপ্তি
উত্তরকাণ্ড রামায়ণের শেষ কাণ্ড। এখানে রামের আদর্শ রাজ্যশাসন, প্রজাকল্যাণ, সীতার বনবাস, লব-কুশের জন্ম ও রামের শেষ জীবন বর্ণিত। এই কাণ্ডে রামায়ণের সমাপ্তি ঘটে — তবে এটি এক করুণ পরিণতিরও সাক্ষী।
রাম অযোধ্যায় ফিরে এলে তাঁকে রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়। রামের শাসনে অযোধ্যা স্বর্গসুখে পূর্ণ হয়। কিন্তু কিছু প্রজা সীতার পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। প্রজার সন্তুষ্টির জন্য রাম অত্যন্ত কষ্ট করে সীতাকে বনবাস দেন। সীতা লক্ষ্মণের সাথে বাল্মীকি আশ্রমে যান। সেখানে জন্ম হয় লব ও কুশ নামে দুই যমজ পুত্রের। বাল্মীকি তাদের শিক্ষা দেন।
পরে অযোধ্যায় অশ্বমেধ যজ্ঞের সময় লব-কুশ বাল্মীকির রচিত রামায়ণ গান করেন। রাম শুনে বুঝতে পারেন যে এরা তাঁর পুত্র। তিনি সীতাকে ফিরিয়ে নিতে চান, কিন্তু সীতা মাতৃভূমির কাছে নিজেকে সমর্পণ করে পৃথিবীতে বিলীন হন। রাম দীর্ঘকাল রাজ্যশাসন করে শেষে সরযূ নদীতে দেহত্যাগ করেন এবং বিষ্ণুলোকে ফিরে যান।
উত্তরকাণ্ডের পর রামায়ণের সমাপ্তি। এই কাণ্ড শেষ করে ফিরে যান রামায়ণের মূল পাতায়, যেখানে সাতটি কাণ্ডের সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক পাওয়া যাবে।