এই কাণ্ডের শিক্ষা
- ধর্মের জয় — অন্যায় শক্তি শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়
- প্রতিশ্রুতি রক্ষা — রাম বিভীষণকে রাজ্য দেন
- ভ্রাতৃস্নেহ — লক্ষ্মণ মেঘনাদকে বধ করেন
- সত্যের মূল্য — অগ্নিপরীক্ষায় সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়
এই কাণ্ড রামায়ণের চরম ও দীর্ঘতম কাণ্ড। সেতুবন্ধ, লঙ্কা আক্রমণ, রাম-রাবণের ভয়াবহ যুদ্ধ, রাবণ বধ, সীতার অগ্নিপরীক্ষা ও রামের অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন — এই কাণ্ডের প্রধান ঘটনা। এখানে ধর্মের উপর অধর্মের চূড়ান্ত জয় বর্ণিত।
হনুমানের কাছ থেকে সীতার খবর পেয়ে রাম ও লক্ষ্মণ সুগ্রীবের বানরসেনা নিয়ে সমুদ্রতীরে আসেন। সমুদ্র দেবতা রামকে সেতু নির্মাণের উপায় বলেন। নল ও নীলের নেতৃত্বে বানরসেনা পাথর দিয়ে সমুদ্রের ওপর সেতু নির্মাণ করে। রাম সেতু নির্মাণ শেষে লঙ্কায় পৌঁছান। বিভীষণ রাবণকে রামের সাথে সন্ধি করতে বলেন, কিন্তু রাবণ তা প্রত্যাখ্যান করেন। বিভীষণ রামের শরণাপন্ন হন এবং রাম তাঁকে লঙ্কার রাজার প্রতিশ্রুতি দেন।
মহাযুদ্ধ শুরু হয়। ইন্দ্রজিৎ মেঘনাদ যুদ্ধে নানা অস্ত্র ব্যবহার করেন, কিন্তু লক্ষ্মণ তাঁকে বধ করেন। কুম্ভকর্ণ ঘুম থেকে জেগে যুদ্ধে আসেন, রাম তাঁকে বধ করেন। অবশেষে রাম ও রাবণের মধ্যে মুখোমুখি যুদ্ধ হয়। রাম ব্রহ্মাস্ত্র ব্যবহার করে রাবণকে বধ করেন। রাম বিভীষণকে লঙ্কার রাজা করেন। সীতা অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে নিজের পবিত্রতা প্রমাণ করেন এবং রাম তাঁকে গ্রহণ করেন। রামের বনবাসের চৌদ্দ বছর পূর্ণ হয় এবং তারা অযোধ্যা ফিরে যান।
রাম অযোধ্যা ফিরে এলে প্রজারা তাঁকে রাজা হিসেবে পায়। রামের রাজত্বে সুখ-শান্তি বিরাজ করে। কিন্তু শেষপর্যায়ে রাম সীতাকে বনবাস দেন এবং লব-কুশের জন্ম হয়।