এই কাণ্ডের বিশেষত্ব
- হনুমানের ভক্তি, শক্তি ও বুদ্ধিমত্তার অপূর্ব সমন্বয়
- সমুদ্র লঙ্ঘনের অতিমানবীয় কীর্তি
- সীতার সাথে হনুমানের সাক্ষাৎ ও আশ্বাসবাণী
- লঙ্কা দহন ও নির্বাপণের অসাধারণ ঘটনা
সুন্দরকাণ্ড রামায়ণের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাণ্ড। এই কাণ্ডে হনুমানের অসাধারণ শক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও ভক্তির পরিচয় মেলে। সমুদ্র লঙ্ঘন, লঙ্কায় প্রবেশ, সীতার সন্ধান, রাবণের সভায় সতর্কবাণী, লঙ্কাদহন ও রামের কাছে ফিরে এসে সুসংবাদ দেওয়া — এই কাণ্ডের মূল উপাদান।
হনুমান দক্ষিণ দিকে যাত্রা করে সমুদ্রতীরে পৌঁছান। তাঁর সামনে বিশাল সমুদ্র। তিনি তাঁর শরীর বৃদ্ধি করে সমুদ্র লঙ্ঘন করেন। পথে সুরসা নাম্নী এক নাগমাতা তাঁকে বাধা দেন, কিন্তু হনুমান কৌশলে তা অতিক্রম করেন। লঙ্কায় পৌঁছে তিনি নগরী পর্যবেক্ষণ করেন এবং রাতের অন্ধকারে রাবণের প্রাসাদে প্রবেশ করেন।
হনুমান অশোকবনে সীতাকে খুঁজে পান। সীতা রাবণের প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে বসে আছেন। হনুমান রামের আংটি দেখিয়ে নিজের পরিচয় দেন এবং সীতাকে আশ্বস্ত করেন। এরপর হনুমান রাবণের সভায় গিয়ে সতর্কবাণী দেন। ক্রুদ্ধ রাবণ হনুমানের লেজে আগুন ধরিয়ে দেন। হনুমান তাঁর লেজ দিয়ে সমস্ত লঙ্কা পুড়িয়ে দেন এবং সমুদ্রে আগুন নেভান। শেষে তিনি রামের কাছে ফিরে এসে সীতার খবর জানান।
হনুমানের কাছ থেকে সীতার খবর পেয়ে রাম লঙ্কা আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। বানর ও রাক্ষসবাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়।