এই কাণ্ডের শিক্ষা
- পিতৃভক্তি — পিতার দেওয়া কথা রক্ষার জন্য রাম বনবাসে যান
- ভ্রাতৃপ্রেম — ভরত রামের পাদুকা এনে রাজ্য শাসন করেন
- ত্যাগ — লক্ষ্মণ-সীতা রামের সাথে বনে যান
- সত্যনিষ্ঠা — দশরথ নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেন
এটি রামায়ণের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী কাণ্ড। রামের রাজ্যাভিষেকের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু কৈকেয়ীর বরে তা ভেস্তে যায়। রাম চৌদ্দ বছরের বনবাসে যান, লক্ষ্মণ ও সীতা তাঁর সঙ্গে যান। ভরত মায়ের ষড়যন্ত্রে ক্ষুব্ধ হয়ে রামের পাদুকা নিয়ে রাজ্যশাসন করেন।
রামের রাজ্যাভিষেকের প্রস্তুতি চলছে। সমগ্র অযোধ্যা উৎসবমুখর। কিন্তু মন্থরা কৈকেয়ীকে উস্কে দেয়। কৈকেয়ী দশরথের কাছে দুটি বর চান — ভরতের রাজ্যাভিষেক ও রামের চৌদ্দ বছরের বনবাস। দশরথ অত্যন্ত কষ্ট পেলেও নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেন। রাম পিতৃবাক্য পালনের জন্য বিনা বাক্যে বনে যেতে রাজি হন। সীতা ও লক্ষ্মণ তাঁর সঙ্গে যান। অযোধ্যার মানুষ রামের জন্য কাঁদেন।
ভরত মা কৈকেয়ীর কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে রামকে ফিরিয়ে আনার জন্য বনে যান। কিন্তু রাম পিতার কথা রাখতে অটল থাকেন। ভরত রামের পাদুকা নিয়ে ফিরে আসেন এবং রাজ্যশাসন করেন। এই কাণ্ডে পিতৃভক্তি, ভ্রাতৃস্নেহ ও ধর্মের জন্য ত্যাগের অসাধারণ দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
অযোধ্যা ত্যাগ করে রাম-সীতা-লক্ষ্মণ পঞ্চবটীতে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই শূর্পণখার আগমন ও সীতা হরণের ঘটনা ঘটে।