✉ sbdakshinabanga@gmail.com   ☎ +91 9432328551 Admin | ফেসবুক
ব্যাকরণ রেফারেন্স

সংস্কৃত ব্যাকরণ — পূর্ণাঙ্গ রেফারেন্স

সন্ধি, সমাস, কারক, শব্দরূপ, ধাতুরূপ ও বাক্য গঠনের নিয়ম — বাংলা ভাষায় সংস্কৃত ব্যাকরণের সহজ ও সম্পূর্ণ রেফারেন্স। পত্রাচার শিক্ষার্থী ও সংস্কৃত শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য সহায়িকা।

১. সন্ধি

সন্নিহিত বর্ণের মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধি তিন প্রকার — স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি, বিসর্গসন্ধি।

ক) স্বরসন্ধি

স্বরবর্ণের সাথে স্বরবর্ণের মিলন। প্রধান সূত্রগুলি:

সূত্রপ্রথম বর্ণদ্বিতীয় বর্ণমিলিত রূপউদাহরণ
অ + অ = আনর + অধিপ = নরাধিপ
অ + ই = এনর + ইন্দ্র = নরেন্দ্র
অ + উ = ওসূর্য + উদয় = সূর্যোদয়
আ + ই = ঐমহা + ইন্দ্র = মহেন্দ্র
আ + উ = ঔমহা + উর্মি = মৌর্মি
ই + অ = যইতি + আদি = ইত্যাদি
উ + অ = বঅনু + অয় = অন্বয়
ঋ + অ = রপিতৃ + অর্থ = পিত্রর্থ
নিয়ম: সদৃশ স্বরের মিলনে দীর্ঘ; অ-এর পর অ-ই হলে আ হয়; অ-এর পর ই-কার হলে এ হয়; অ-এর পর উ-কার হলে ও হয়।

খ) ব্যঞ্জনসন্ধি

ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বর বা ব্যঞ্জনবর্ণের মিলন। গুরুত্বপূর্ণ সূত্র:

সূত্রউদাহরণব্যাখ্যা
ত + স = ত্সউৎ + স্থ = উত্সত ও স-এর মিলনে ত্স
ত + শ = চ্ছসৎ + শাস্ত্র = সচ্ছাস্ত্রত + শ = চ্ছ (ত-এর স্থানে চ, শ-এর স্থানে ছ)
ন + ত = ন্তঅন্ + ত = অন্তন ও ত-এর মিলনে ন্ত
ম + ক = ঙ্কসम् + কৃ = সঙ্কৃম-এর স্থানে ঙ (ক-বর্গের অনুনাসিক) + ক
ম + প = ম্পসम् + পদ = সম্পদম + প = ম্প
ম + ব = ম্বসम् + বৃত = সম্বৃতম + ব = ম্ব
ম + য = ম্যসम् + য = সংযম + য = ম্য

গ) বিসর্গসন্ধি

বিসর্গ (ঃ) এর সাথে স্বর বা ব্যঞ্জনবর্ণের মিলন।

সূত্রউদাহরণব্যাখ্যা
ঃ + ক = স্কনমঃ + কৃ = নমস্কৃবিসর্গের পর ক-বর্গ থাকলে বিসর্গে স-আগম
ঃ + প = স্পনমঃ + প = নমস্পবিসর্গের পর প-বর্গ থাকলে স-আগম
ঃ + স্বর = র্ + স্বরমনঃ + ইচ্ছা = মনোরিচ্ছাবিসর্গের পর স্বর থাকলে র-আদেশ
অঃ + অ = ওরামঃ + আগত = রামাগতঅঃ-এর র্-এর সাথে অ = র + অ, র্ + অ লোপ
আঃ + স্বর = আর্ + স্বরবালাঃ + আগতা = বালাগতাআঃ + স্বর = আর্ + স্বর = আর্

২. শব্দরূপ (Declension)

সংস্কৃতে বিশেষ্য ও বিশেষণ সাতটি বিভক্তিতে (প্রথমা থেকে সপ্তমী) ও তিনটি বচনে (এক, দ্বি, বহু) রূপান্তরিত হয়।

বাল — পুংলিঙ্গ (অ-কারান্ত)

বিভক্তিএকবচনদ্বিবচনবহুবচন
প্রথমা (কর্তা)বালঃবালৌবালাঃ
দ্বিতীয়া (কর্ম)বালম্বালৌবালান্
তৃতীয়া (করণ)বালেনবালাভ্যাম্বালৈঃ
চতুর্থী (সম্প্রদান)বালায়বালাভ্যাম্বালেভ্যঃ
পঞ্চমী (অপাদান)বালাত্বালাভ্যাম্বালেভ্যঃ
ষষ্ঠী (সম্বন্ধ)বালস্যবালয়োঃবালানাম্
সপ্তমী (অধিকরণ)বালেবালয়োঃবালেষু
সম্বোধনহে বালহে বালৌহে বালাঃ

বালা — স্ত্রীলিঙ্গ (আ-কারান্ত)

বিভক্তিএকবচনদ্বিবচনবহুবচন
প্রথমাবালাবালেবালাঃ
দ্বিতীয়াবালাম্বালেবালাঃ
তৃতীয়াবালয়াবালাভ্যাম্বালাভিঃ
চতুর্থীবালায়ৈবালাভ্যাম্বালাভ্যঃ
পঞ্চমীবালায়াঃবালাভ্যাম্বালাভ্যঃ
ষষ্ঠীবালায়াঃবালয়োঃবালানাম্
সপ্তমীবালায়াম্বালয়োঃবালাসু
সম্বোধনহে বালেহে বালেহে বালাঃ

ফল — নপুংসকলিঙ্গ (অ-কারান্ত)

বিভক্তিএকবচনদ্বিবচনবহুবচন
প্রথমাফলম্ফলেফলানি
দ্বিতীয়াফলম্ফলেফলানি
তৃতীয়াফলেনফলাভ্যাম্ফলৈঃ
চতুর্থীফলায়ফলাভ্যাম্ফলেভ্যঃ
পঞ্চমীফলাত্ফলাভ্যাম্ফলেভ্যঃ
ষষ্ঠীফলস্যফলয়োঃফলানাম্
সপ্তমীফলেফলয়োঃফলেষু
সম্বোধনহে ফলহে ফলেহে ফলানি
মনে রাখবেন: পুংলিঙ্গে প্রথমা একবচনে স-কার (ঃ) যোগ হয়। স্ত্রীলিঙ্গ আ-কারান্তে তৃতীয়া একবচনে 'য়া' হয়। নপুংসকে প্রথমা ও দ্বিতীয়া একবচন সমান।

৩. ধাতুরূপ (Verb Conjugation)

সংস্কৃতে ধাতু (root) তিনটি পুরুষে (প্রথম, মধ্যম, উত্তম) ও তিনটি বচনে (এক, দ্বি, বহু) বিভক্ত।

ভূ (হওয়া) — লট্ লকার (বর্তমান কাল)

পুরুষএকবচনদ্বিবচনবহুবচন
প্রথম পুরুষ (সে)ভবতিভবতঃভবন্তি
মধ্যম পুরুষ (তুমি)ভবসিভবথঃভবথ
উত্তম পুরুষ (আমি)ভবামিভবাবঃভবামঃ

পঠ্ (পড়া) — লট্ লকার (বর্তমান কাল)

পুরুষএকবচনদ্বিবচনবহুবচন
প্রথম পুরুষপঠতিপঠতঃপঠন্তি
মধ্যম পুরুষপঠসিপঠথঃপঠথ
উত্তম পুরুষপঠামিপঠাবঃপঠামঃ

ভূ (হওয়া) — লোটা লকার (অনুজ্ঞা)

পুরুষএকবচনদ্বিবচনবহুবচন
প্রথম পুরুষভবতুভবতাম্ভবন্তু
মধ্যম পুরুষভবভবতম্ভবত
উত্তম পুরুষভবানিভবাবভবাম

ভূ (হওয়া) — লঙ্ লকার (অনুজ্ঞা)

পুরুষএকবচনদ্বিবচনবহুবচন
প্রথম পুরুষঅভবৎঅভবতাম্অভবন্
মধ্যম পুরুষঅভবঃঅভবতম্অভবত
উত্তম পুরুষঅভবম্অভবাবঅভবাম
টিকা: লট্-এর পরে 'তি', 'সি', 'মি' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। লোটা-তে আজ্ঞাসূচক অর্থ (কর, যাও)। লঙ্-এ অতীতকাল বোঝাতে 'অ' উপসর্গ (augment) যোগ হয়।

৪. সমাস (Compound Words)

দুই বা ততোধিক পদের মিলনকে সমাস বলে। সংস্কৃতে ছয় প্রকার সমাস প্রচলিত।

সমাসের নামবিবরণউদাহরণবিগ্রহ
তৎপুরুষপূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়, পরপদের অর্থ প্রধানরাজপুরুষরাজ্ঞঃ পুরুষ (রাজার পুরুষ)
কর্মধারয়পূর্বপদ বিশেষণ, পরপদ বিশেষ্যমহারণ্যম্মহদ্ চ অরণ্যম্ (বড়ো বন)
দ্বিগুপূর্বপদ সংখ্যাবাচক, সমাহার অর্থেত্রিলোকীত্রয়াণাং লোকানাং সমাহারঃ (তিন লোকের সমাহার)
দ্বন্দ্বউভয় পদের অর্থ প্রধান, 'এবং' দ্বারা যুক্তরামলক্ষ্মণৌরামশ্চ লক্ষ্মণশ্চ (রাম ও লক্ষ্মণ)
অব্যয়ীভাবপূর্বপদ অব্যয়, সমস্ত পদ অব্যয়রূপে ব্যবহৃতপ্রতিদিনম্দিনে দিনে (প্রতি দিন)
বহুব্রীহিঅন্য অর্থ প্রধান, নিজের অর্থ নয়চিত্রগুচিত্রা গাবো যস্য (যার গায় চিত্রবর্ণ — বলরাম)

তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ

  • গৃহাগত — গৃহম্ আগতঃ (গৃহে আগত)
  • জলধারঃ — জলস্য ধারঃ (জলের ধারা)
  • শাস্ত্রজ্ঞঃ — শাস্ত্রে জ্ঞঃ (শাস্ত্রে জ্ঞানী)

কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ

  • নীলোৎপলম্ — নীলং চ উৎপলম্ (নীল পদ্ম)
  • মহর্ষিঃ — মহান্ চ ঋষিঃ (মহান ঋষি)
  • সৎপুরুষঃ — সন্ চ পুরুষঃ (সৎ পুরুষ)

৫. কারক ও বিভক্তি

কারক হল ক্রিয়ার সাথে নাম পদের সম্পর্ক। সংস্কৃতে ছয়টি কারক ও সপ্তমী অধিকরণ।

কারকঅর্থবিভক্তিউদাহরণ
কর্তৃকারকযে ক্রিয়া সম্পাদন করেপ্রথমারামঃ পঠতি (রাম পড়ে)
কর্মকারকক্রিয়ার ফলদ্বিতীয়ারামঃ পুস্তকং পঠতি (রাম বই পড়ে)
করণকারকযার সাহায্যে ক্রিয়া হয়তৃতীয়ারামঃ কলমেন লিখতি (রাম কলমে লেখে)
সম্প্রদানকারকযাকে উদ্দেশ্য করে ক্রিয়াচতুর্থীরামঃ গুরবে পুষ্পং দদাতি (রাম গুরুরে ফুল দেয়)
অপাদানকারকযা থেকে বিচ্ছেদ/উৎপত্তিপঞ্চমীবৃক্ষাৎ পত্রং পততি (গাছ থেকে পাতা পড়ে)
সম্বন্ধঅধিকার/সম্পর্কষষ্ঠীরামস্য পুস্তকম্ (রামের বই)
অধিকরণযেখানে ক্রিয়া ঘটেসপ্তমীবিদ্যালয়ে পঠতি (বিদ্যালয়ে পড়ে)
সহজ কৌশল: 'কী/কে' — কর্তা (প্রথমা), 'কী/কাকে' — কর্ম (দ্বিতীয়া), 'কী দিয়ে/কার দ্বারা' — করণ (তৃতীয়া), 'কীসের জন্য/কাকে' — সম্প্রদান (চতুর্থী), 'কী থেকে/কার কাছ থেকে' — অপাদান (পঞ্চমী), 'কার/কীসের' — সম্বন্ধ (ষষ্ঠী), 'কোথায়/কখন' — অধিকরণ (সপ্তমী)।

৬. বাক্য গঠন

সংস্কৃতে সাধারণ বাক্যের গঠন: কর্তা + কর্ম + ক্রিয়া (SOV)। তবে ক্রম নমনীয়।

বাংলা বাক্যসংস্কৃত বাক্যগঠন
ছেলেটি বই পড়েবালঃ পুস্তকং পঠতিকর্তা (প্র.এ.) + কর্ম (দ্বি.এ.) + ক্রিয়া
মেয়েরা গান গায়বালাঃ গীতং গায়ন্তিকর্তা (প্র.ব.) + কর্ম (দ্বি.এ.) + ক্রিয়া
শিক্ষক ছাত্রকে পড়ানঅধ্যাপকঃ ছাত্রায় পঠতিকর্তা + সম্প্রদান + ক্রিয়া
আমি স্কুলে যাইঅহম্ বিদ্যালয়ং গচ্ছামিকর্তা (উ.প.) + কর্ম (দ্বি.এ.) + ক্রিয়া
তিনি কলম দিয়ে লেখেনসঃ কলমেন লিখতিকর্তা + করণ (তৃ.এ.) + ক্রিয়া
আমরা বাড়ি থেকে আসিবয়ম্ গৃহাৎ আগচ্ছামঃকর্তা + অপাদান (প.এ.) + ক্রিয়া
ফল গাছে থাকেফলানি বৃক্ষে তিষ্ঠন্তিকর্তা + অধিকরণ (স.এ.) + ক্রিয়া
রামের বই বড়োরামস্য পুস্তকং মহৎসম্বন্ধ (ষ.এ.) + কর্তা + বিশেষণ

প্রশ্নবোধক বাক্য

  • ত্বং কুত্র বসসি? — তুমি কোথায় বাস কর?
  • ভবতঃ নাম কিম্? — আপনার নাম কী?
  • কতি পুস্তকানি? — কয়টি বই?
  • সঃ কঃ অস্তি? — সে কে?

নিষেধবোধক বাক্য

  • অহম্ ন গচ্ছামি — আমি যাই না
  • মা গমঃ — যেও না
  • ন ময়া দৃষ্টম্ — আমার দেখা হয়নি
  • ন এতৎ যথার্থম্ — এটা সঠিক নয়

৭. সংখ্যা ও গণনা

সংস্কৃতে সংখ্যা তিন বচনে বিভক্ত। এখানে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা ও গণনা পদ্ধতি দেওয়া হল।

অঙ্কসংস্কৃতঅঙ্কসংস্কৃতঅঙ্কসংস্কৃত
এক১০দশ১০০শতম্
দ্বি২০বিংশতি২০০দ্বিশতম্
ত্রি৩০ত্রিংশৎ৫০০পঞ্চশতম্
চতুর্৪০চত্বারিংশৎ১০০০সহস্রম্
পঞ্চ৫০পঞ্চাশৎ২০০০দ্বিসহস্রম্
ষষ্৬০ষষ্টিঃ১০,০০০অযুতম্
সপ্ত৭০সপ্ততিঃ১,০০,০০০লক্ষম্
অষ্ট৮০অশীতিঃ১০,০০,০০০নিযুতম্
নব৯০নবতিঃ১০,০০,০০,০০০কোটিঃ
জানতে আগ্রহী? সম্পূর্ণ সংস্কৃত ব্যাকরণ আয়ত্ত করতে আমাদের পত্রাচার কোর্স এ ভর্তি হোন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে শেখানো হয়। বিনামূল্যে নমুনা পাঠের জন্য শিক্ষাসহায়ক পৃষ্ঠাটি দেখুন।

সংস্কৃত শিখুন পত্রাচারের মাধ্যমে

৬ মাসের কোর্স, ₹৩৫০ ফি, সার্টিফিকেট। আর দেরি নয়, আজই শুরু করুন।

কোর্স দেখুন